
মো : বাদশা প্রামানিক, ডিমলা নীলফামারী :
নীলফামারীর ডিমলায় স্নেহের পরশে লালন-পালন করা দত্তকপুত্রের বিরুদ্ধে কৌশলে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধ বাবাকে অবহেলা, ঠিকমতো খাবার না দেওয়া এবং বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মো. আমিনুর রহমান (৭০) ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে দত্তকপুত্র রাকিবুল ইসলাম রাজু (৪২), তাঁর স্ত্রী মোছা. শিউলি বেগম (৩২) এবং শিউলির বাবা মো. দবির উদ্দিনকে (৫৫) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোনো সন্তান না থাকায় প্রায় ১৪ বছর আগে রাকিবুল ইসলামকে নিজের সন্তান হিসেবে দত্তক গ্রহণ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডালিয়া ডিভিশন) অবসরপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আমিনুর রহমান। পরবর্তীতে নিজ শালিকার মেয়ে শিউলির সাথে রাকিবুলের বিয়ে দেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই রাজু ও তাঁর স্ত্রী প্রবীণ এই অভিভাবককে গৃহহীন করার ফন্দি আঁটতে থাকেন। প্রায় ১২ বছর আগে অচেতন নাশক ওষুধ খাইয়ে কৌশলে আমিনুর রহমানের নামীয় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি রাজুর নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়া হয়।
আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁকে আমৃত্যু দেখাশোনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জমি হস্তান্তরের পর থেকেই তাঁর ওপর নেমে আসে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি ঠিকমতো খাবার ও ওষুধ না দিয়ে তাঁকে চূড়ান্ত কষ্টে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩ আগস্ট সকালে তাঁর খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আতঙ্কিত বৃদ্ধ অলৌকিকভাবে রক্ষা পান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি অবহিত করেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বৃদ্ধ আমিনুর বলেন, “যাকে নিজের সন্তানের মতো বুক দিয়ে আগলে রেখেছি, শেষ বয়সে এসে তাঁর কাছেই এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হবে—তা কখনো ভাবিনি। অবসরের টাকা ও সম্পত্তি হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। চিকিৎসার খরচ পর্যন্ত চালাতে পারছি না। জীবনের এই প্রান্তে এসে শুধু নিরাপদে বাঁচতে চাই।”
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরওপড়ুন….. লাখাইয়ে ধরার বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী।