
স্টাফ রিপোর্টার :
দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ নাফ নদী সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্তে আবারো ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বুধবার রাতে কয়েক দফায় হওয়া এই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে ওপার-এপার। ফলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পরপর চারবার ভারী মর্টার শেল বা শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সীমান্ত। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপসহ আশপাশের এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ শহর ও সীমান্ত এলাকা বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত প্রায় তিন বছর ধরে অঞ্চলগুলো জান্তা সরকারের হাতছাড়া। তবে সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীও সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, হারানো অঞ্চল পুনর্দখলে নিতে মিয়ানমার সরকারি বাহিনী নতুন করে হামলা শুরু করেছে। ফলে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষে প্রায়ই কেঁপে উঠছে টেকনাফ সীমান্ত। মাঝে মাঝেই ওপার থেকে ছিটকে আসা গুলি ও মর্টার শেল এসে পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে।
শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান বলেন, হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করি, মনে হচ্ছিল পুরো এলাকা কেঁপে উঠছে। পরপর চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের লেলিহান শিখাও দেখা গেছে। মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, আগুনের ঝলক আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি আরাকান আর্মির ছোড়া কোনো বড় মর্টার শেলের বিস্ফোরণ হতে পারে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, দীর্ঘদিন পর মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে টেকনাফ সীমান্তে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় অনেকে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। এরপর বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল থাকলেও এখন জান্তা সরকার হারানো সীমান্ত এলাকা পুনর্দখলে মরিয়া হয়ে হামলা চালাচ্ছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রাত ৯টা-১০টার দিকে মিয়ানমারের মংডু সীমান্তের ওপারে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ওই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে, যার কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে আমি নিজেই সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের বিকট শব্দ টেকনাফে শোনা গেছে। আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।