
মোঃ বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নীলফামারীর বঞ্চিত প্রার্থীরা। নিয়োগ জট নিরসন এবং দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবিতে আজ
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মিরপুর, ঢাকা) বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে নীলফামারীর সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মো. নুরুদ্দীনসহ অন্যান্য বঞ্চিত প্রার্থীরা স্বাক্ষর করেন।
দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তা: নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে।প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ, নেতিবাচক ভেরিফিকেশন তথ্য বা অযোগ্যতার কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে প্রার্থীরা চরম মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
বঞ্চিত শিক্ষকরা মানববন্ধন ও স্মারকলিপিতে তাদের কয়েকটি দাবি উল্লেখ করেন। চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, তার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা এনএসআই (NSI) প্রতিবেদনে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য থাকলে তা প্রার্থীকে স্পষ্টভাবে অবহিত করতে হব। অযোগ্যতার পেছনে কোনো প্রশাসনিক নীতি, আইন বা বিজ্ঞপ্তির শর্ত থাকলে তা স্পষ্ট করতে হবে। একই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও তাঁদের ক্ষেত্রে এই ব্যতিক্রম হওয়ার যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্র দাখিলের সময় দিতে হবে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি:
নীলফামারী জেলায় ১৬১ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
এর মধ্যে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে অনেকেই নিয়োগপত্র পেলেও ৫২ জন প্রার্থী এখনো তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, বঞ্চিতদের আবেদনপত্রটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।