
মোঃ বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেল গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ঘাটের পাড়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের বারনীর মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭শে মার্চ) সকাল থেকে দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচার বারনির মেলা(পিণ্ডদান) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শতাধিক ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ তাদের পূর্বপুরুষেরদেখানো আত্মার শান্তি কামনায় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। এ উপলক্ষে আশে-পাশে দোকানের সমাগম ঘটে।
সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, পূর্বপুরুষদের আত্মার সদগতি এবং প্রেতযোনি থেকে মুক্তির জন্য পিণ্ডদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাধারণত পিতৃপক্ষ (ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষ) সময়ে অথবা মৃত্যুবার্ষিকীতে করা হয়। গয়া ও কাশীতে পিণ্ডদানকে সর্বোচ্চ পবিত্র হিসেবে ধরা হয়, যা মহাভারতেও উল্লেখ রয়েছে।
এসময় হরি চক্রবর্তী নামে একজন পুরোহিত বলেন, ” পিণ্ডদান শুধু আধ্যাত্মিক চর্চা নয়, এটি পারিবারিক ঐতিহ্যও বহন করে। পূর্বপুরুষদের স্মরণে এই আচার সম্পন্ন করলে পরিবারের কল্যাণ হয় এবং পিতৃপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।”
আরওপড়ুন ….ফুলবাড়ীতে পত্রিকা বিক্রেতাদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
সময়ের পরিবর্তনে পিণ্ডদানের আচারেও কিছুটা আধুনিকতা এসেছে। বর্তমানে অনেকেই অনলাইনে পূজা বুকিং করে ভার্চুয়ালভাবে পিণ্ডদান করাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের সেবা দিচ্ছে, যেখানে পরিবারের অনুপস্থিতিতেও পুরোহিতরা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত এই ধর্মীয় আচার আজও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও পিণ্ডদানের মূল দর্শন এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে—পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার চিরশান্তি কামনা আচার-অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.