1. salmankoeas@gmail.com : admin :
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্য সরবরাহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি - দৈনিক ক্রাইমসিন
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মাধবপুরে স্কুল ভবনের ছাদ ভেঙে পড়ে আহত দপ্তরী, উদ্বেগ অভিভাবকদের আলোচিত রিসোর্টকাণ্ড: ৫০১ নম্বর কক্ষ নিয়ে যা বললেন মামুনুল হক শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধার হলো বিষধর শঙ্খিনী ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’ অবহেলা নয়, দ্রুত চিকিৎসা জরুরি—ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী? ডিমলায় পাটনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত: আধুনিক প্রযুক্তি ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বারোপ ফাউল, হলুদ নাকি লাল কার্ড—মেসির ঘটনাটি কীভাবে দেখে ফুটবল আইন? মাধবপুরের পল্লীতে কয়েক হাজার ফুট আর্জেন্টিনার পতাকা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চন্ডিছড়া চা বাগানের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শ্রীমঙ্গল থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির যাত্রা শুরু

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্য সরবরাহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

মোঃ বাদশা প্রমানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৩১৬ Time View

মোঃ বাদশা প্রমানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবার সরবরাহের অডিও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মেসার্স শিরিন ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হলেও রোগীদের অভিযোগ, নিম্নমানের এবং পরিমাণেও কম খাবার সরবরাহ করা হয়।”

স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশমুখেই ময়লা আবর্জনার স্তূপ। শৌচাগারগুলো ব্যবহারের অনুপযুক্ত, যেখানে কিলবিল করছে মশা ও মাছি। মেজে ও দেয়ালে দেখা যায় পানের পিক। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ব্যবহৃত স্যালাইনের সরঞ্জাম ও ওষুধের প্যাকেট। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিবেশ নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত, যা চিকিৎসা গ্রহণের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত।”

অভিযোগ উঠেছে, মেসার্স শিরিন ট্রেডার্স নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে দায়িত্ব থাকলেও মূলত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ মো. রাশেদুজ্জামান এর নেপথ্যে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজিপি টেন্ডারে চার তালিকায় নম্বরে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র স্বাস্থ্য কর্মকর্তার রাশেদুজ্জামানের যোগসাজশে এই কাজটি বাগিয়ে নিয়েছে উক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে একদিকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন সেবা সেবা প্রত্যাশীরা,অপরদিকে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।”

হাসপাতালে প্রতিদিন সকালে রোগী প্রতি দুইটি পাউরুটি, একটি সিদ্ধ ডিম ও এক চামচ চিনি দেওয়া হয়। দুপুরে দেওয়া হয় ৭.৫০ গ্রাম ওজনের সিলভারকাপ মাছ, ১০০ গ্রাম মোটা চালের ভাত, ডাল ও ভাজি মেশানো তরকারি। রাতে প্রায়শই দুপুরের অবশিষ্ট খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। অথচ টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে চার দিন মাছ এবং দুই দিন মাংস দেওয়ার কথা।”

সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর প্রতিদিনের খাবারের জন্য ১৭৫ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যেখানে সকালে দুইটি পাউরুটি, দুইটি সিদ্ধ ডিম, একটি কলা ও ২০ গ্রাম চিনি; দুপুরে ও রাতে ১০০ গ্রাম মাছ, ২০০ গ্রাম ভাত, ২০ গ্রাম ডাল এবং পরিমাণ মতো সবজি দেওয়ার কথা। তবে ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরবরাহ করা হচ্ছে সিলভারকাপ, বার্মিজ রুই, তেলাপিয়া মাছ এবং মোটা চালের ভাত। অনেক সময় পচা ও বাসি তরকারি এবং পরিমাণেও কম খাবার পরিবেশন করা হয়।

এ বিষয়ে একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।”

উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকার বকুল নামের এক রোগী জানান, “চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। পাতলা ডাল দেয়। মাছ মাংসে ঝাল বা মসলার কোনো স্বাদ নেই। আর যে ভাত দেয়, তা গলা দিয়ে নামে না।”

খগাখরিবাড়ী ইউনিয়নের টুনিরহাট এলাকার মহিলা ওয়ার্ডের ১১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন নুরজাহান বেগম বলেন, “খাবারে কোনো স্বাদ বা ঘ্রাণ নেই। মসলার চিহ্নও নেই। দুপুরের খাবার কোনোমতে খাওয়া গেলেও রাতের খাবার মুখে তোলা যায় না।”

বালাপাড়া সুন্দরখাতা গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মুনতাহানা বেগম মহিলা ওয়ার্ডের ১৩ নম্বর বেডে শুয়ে বলেন, “বাবা যে ভাত দেয়, পেট ভরে না। আরও চাইলে দেয় না। ক্ষুধ নিয়েই থাকতে হয়। চিকিৎসা করাতে এসেছি, টাকা তো আর নেই যে বাইরে থেকে কিনে খাবো।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, খাবার খাওয়ার অযোগ্য হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। এছাড়াও, খাবার সরবরাহও দেরিতে হচ্ছে। প্রায়শই সকাল ৮টার পরিবর্তে ১০টা থেকে ১০:৩০ টার মধ্যে খাবার আসে। এমনকি অনেক সময় খাবারের মানও ঠিক থাকে না।”

উপজেলা খালিশা চাপানি ইউনিয়নের বাইশ পুকুর গ্রামের আব্দুল জলিল মন্ডল, যিনি তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি, তিনি কালবেলাকে বলেন, “সকালে দুইটা বাসি পাউরুটি আর একটু চিনি দিয়েছিল, যা খাওয়া যায়নি। দুপুরে অল্প ভাত আর আধ পিস মাছ দিয়েছিল, সাথে তরকারিও ছিল। মাছ অপরিষ্কার থাকায় ফেলে দিয়েছি। রাতের খাবার মুখে দেওয়া যায় না। আর দিলেও তা পচা-গন্ধযুক্ত ও কাঁকর মেশানো থাকে, যা খাওয়ার অযোগ্য।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাগজে কলমে মেসার্স শিরিন ট্রেডার্স থাকলেও মূল ক্ষমতা ডাঃ মো. রাশেদুজ্জামানের হাতে। বারবার বলা সত্ত্বেও খাবারের মানের কোনো উন্নতি হয়নি। ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না সাধারণ কর্মচারীরা।”

এ বিষয়ে খাদ্য সরবরাহকারী শাহিনুর ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মো. রাশেদুজ্জামানের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।”

তবে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!