
মাহমুদুল হাসান শুভ বগুড়া শেরপুর প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা ব্রিজের নিচে বাঙালি নদীর একাংশ এখন ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা একে ‘নতুন জাফলং’ বলছেন, কারণ নদীর স্বচ্ছ জল, বালুময় তীর আর যেন সিলেটের বিখ্যাত জাফলংয়েরই এক প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছে। প্রাকৃতিক রূপে মুগ্ধ স্থানীয়রা।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাঙালি নদীর সংস্কার করা হচ্ছে এবং কিছু অংশে পলি জমে যাওয়ার ফলে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তলদেশে বালুর স্তর ও ছোট ছোট কুচি পাথরের তৈরি হয়েছে, যা দেখতে অনেকটা জাফলংয়ের পানির শ্রেতের মতো। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপ্রেমী মানুষ এখানে আসতে শুরু করেছেন। ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ফরিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে এই নদী দেখে আসছি, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরে এমন রূপ আগে কখনো দেখিনি। নদীর পানি এখন খুবই স্বচ্ছ, আর জায়গাটি পিকনিকের জন্য দারুণ হয়ে উঠেছে।”
শুধু স্থানীয়রাই নন, আশপাশের উপজেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন। কেউ নৌকা ভ্রমণ করছেন, কেউবা নদীর পাড়ে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সংরক্ষণ ও পর্যটন সম্ভাবনা
স্থানীয় ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান হিটলার বলছেন, জায়গাটি যদি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তাহলে এটি অস্থায়ী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এখানে পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।”
স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বগুড়ার শেরপুরের বুকে ‘নতুন জাফলং’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই জায়গাটি কি সত্যিই অসাধারণ। যারা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ভালোবাসেন, তাদের জন্য জোড়গাছা ব্রিজের নিচে বাঙালি নদীর এই অংশ হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। তবে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্বও নিতে হবে সকলের। যদি অসচেতন পর্যটকরা প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে বা অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন শুরু হয়, তাহলে এই সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবেশ রক্ষার দিকেও নজর দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয়রা জানান, বিনোদন নিতে এসে যদি কেউ হয়রানির স্বীকার না হয় সেদিকে প্রসাশনের দৃষ্টি দিতে হবে। এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে নদীর পানিতে পড়ে যেন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.