1. salmankoeas@gmail.com : admin :
মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরি, জরিমানার বোঝা দপ্তরির কাঁধে! - দৈনিক ক্রাইমসিন
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মাধবপুরের পল্লীতে কয়েক হাজার ফুট আর্জেন্টিনার পতাকা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চন্ডিছড়া চা বাগানের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শ্রীমঙ্গল থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির যাত্রা শুরু পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মাধবপুরে পার্টনার কংগ্রেস এক ম্যাচে মেসির যত রেকর্ড গাঁজা সেবনে কি ক্ষতি হয় ! জানলে আপনি গাঁজা ছেড়ে দিবেন? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল: বেতন বৃদ্ধি নাকি সুবিধা হ্রাস? বাল্যবিয়ে রোধে নতুন পদক্ষেপ: ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ক্রাইমসিনে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুবদল নেতা শামীম আহমেদ বহিষ্কার রুমিন ফারহানার প্রশ্নে স্থানীয় নির্বাচন ইস্যুতে মুখ খুললেন মন্ত্রী

মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরি, জরিমানার বোঝা দপ্তরির কাঁধে!

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৪২ Time View

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়া ৪টি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দায় চাপানো হয়েছে হতদরিদ্র দপ্তরি কাম প্রহরীর উপর। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চলছে তীব্র সমালোচনা।
জানা যায়, দেড় মাস আগে উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাতে তালা ভেঙে চারটি ফ্যান নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোরচক্র। কিন্তু সে সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা জিডি করেনি। পরে চুরির দায় এসে পড়ে স্কুলের দপ্তরি কাম প্রহরী সাইদুর রহমানের ঘাড়ে।
অত্যন্ত ঋণগ্রস্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ সাইদুর রহমান বলেন,
“পুরুষ মানুষকে কখনো কাঁদতে দেখেছেন? আমি অভাবে-অপমানে প্রতিদিন কাঁদি। চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দায় চাপানো হয়েছে আমার উপর। এলাকায় কেউই বিশ্বাস করবে না আমি চুরি করেছি।”
ফ্যান কেনার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্যান স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম জিম্মা হয়ে দোকান থেকে বাকিতে নিয়েছেন। বাকি দুটি ফ্যানও দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন,”আমার জানা মতে সাইদুর অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপর জরিমানা চাপিয়ে দিলে সে চোর বনে যাবে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য বিষয়টি তদন্ত করে দেখা জরুরি।”
প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম জানান,
“বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন জিডি করা হয়নি। আমার দপ্তরি খুব ভালো মানুষ। আমি দোকান থেকে দুটি ফ্যান বাকিতে এনে দিয়েছি। মূল্য পরিশোধ না করলে আমাকে নিজেকেই দিতে হবে।”
এদিকে জানা গেছে, চলতি বছরেই উপজেলায় আরও ৫–১০টি বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় থানায় জিডি হলেও কোনো বিদ্যালয়ে দপ্তরির উপর দায় চাপানোর নজির নেই।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির(এটিও) হোসেন বলেন,”চুরি হওয়ার পরপরই আমরা প্রধান শিক্ষিকাকে জিডি করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার ও চুরি প্রতিরোধে সিসিটিভির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সমাধানের জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে থানায় পুনরায় মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, চুরির ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন নিম্নবেতনভুক্ত দপ্তরির উপর দায় চাপানো অমানবিক ও অন্যায়।
এছাড়া এ ঘটনায় দপ্তরী কাম প্রহরীদের পেশাজীবী সংগঠন থেকেও নিন্দা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!