
মাধবপুর হবিগঞ্জ সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমুলঘর গ্রামে তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাটি কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে এখনো ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিমুলঘর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মিয়া গত ২৫ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের শেখ মো. ফখরুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বিভিন্ন কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি একটি তিন ফসলি (১/১ খতিয়ানভুক্ত) কৃষিজমিতে ড্রেজার বসিয়ে ব্যাপকভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমিটির বর্তমান দখলদার মালিক ছাতিয়াইন ইউনিয়নের আলেকপুর গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে মো. জাবেদ মিয়া। তিনি শেখ মো. ফখরুল মিয়ার কাছে ওই জমির মাটি বিক্রি করেছেন। এর ফলে আশপাশের কৃষিজমির স্বাভাবিক উচ্চতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে গভীরভাবে মাটি কাটার কারণে পাশের জমিগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট এবং কৃষিজমির স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাধিক অনুরোধ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা মাটি উত্তোলন অব্যাহত রাখায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় গত ৩০ জুন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপ-সহকারী কমিশনার (ভূমি) লোকমান হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ড্রেজার মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, “আমি ড্রেজার মেশিনটি বন্ধ করে দিয়েছি। তবে এখন খবর পাচ্ছি, রাতে আবার ড্রেজার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের ওই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। নির্দেশ দেওয়ার পরও আগের মতোই ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চলছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ না করা হলে বিস্তীর্ণ তিন ফসলি কৃষিজমি স্থায়ীভাবে উৎপাদনক্ষমতা হারাবে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জাবেদ মিয়া বলেন, “আমরা একদিন মাটি কেটেছিলাম। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে কাজ বন্ধ রেখেছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় ড্রেজার পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”