
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর সাব-রেজিস্টার অফিসে নারী সহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে নকল নবীস অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী কর্মচারী গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাধবপুর থানার ওসি-কে এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে খণ্ডকালীন চাকরি নেওয়ার পর অসীম কুমার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অফিসে প্রভাব বিস্তার করেন। ভুক্তভোগী জানান, গত এক বছর ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন অসীম। একাধিকবার তার বোরকা ছিঁড়ে ফেলা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা এবং পরবর্তীতে ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্ন ছবি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জানা গেছে, তিনি সাব-রেজিস্টার জীতেন্দ্র লাল দাসের স্বাক্ষর জাল করে ২০২২ সালের ৫৭৯৩, ৫৯০৪ ও ৬০২৬ নম্বর দলিলসহ একাধিক নথি সরবরাহ করেন। একইভাবে সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে ৬৮৮৩ থেকে ৬৮৯৩ নম্বর পর্যন্ত অন্তত ১০টি দলিল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেন বলেও জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অসীম কুমার নাগ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
সাবেক সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেন বলেন, “কোনো নকল নবীস স্বাক্ষর জাল করে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বর্তমান সাব-রেজিস্টার মাসুদ রানা জানান, “অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। তদন্ত চলছে। তার অপকর্ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সে অফিসে আসছে না। আইন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
Subscribe to get the latest posts sent to your email.