
জুবায়ের আহমেদ :লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গভীর রাতে সরকারি বই ও আসবাবপত্র চুরির চেষ্টাকালে একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের ‘দুর্নীতির পাহাড়’ ধসে পড়তে শুরু করেছে। সরকারি সম্পদ পাচারের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৪/৫ জন কে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।
গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষ থেকে ‘ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১’ নম্বরের একটি পিকআপ ভ্যানে মালামাল লোড করা হচ্ছিল। গভীর রাতে মাদ্রাসার নতুন-পুরানো বই, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বৈদ্যুতিক পাখা সরানোর দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে।
উপস্থিত জনতা পাচারের গন্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্তরা দাবি করেন, মালামালগুলো শিক্ষা অফিসে নেওয়া হচ্ছে। তবে গভীর রাতে শিক্ষা অফিস খোলা থাকার যৌক্তিকতা না পাওয়ায় স্থানীয়রা গাড়িটি আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালসহ ট্রাকটি জব্দ করে।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলামের সরাসরি নির্দেশে সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন, নজির হোসেন এবং নৈশপ্রহরী মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে এই পাচার কাজ চলছিল। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষকরা সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। পরে জানা যায়, কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত বা দরপত্র ছাড়াই সরকারি এসব সম্পদ গোপনে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পাচার কাণ্ড মাদ্রাসার পুঞ্জীভূত দুর্নীতির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।বিগত কয়েক বছর আগে পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা কোনো কাজ না করেই আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সংবাদকর্মীদের লাঞ্ছিত করার নজিরও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি ফির তিন থেকে পাঁচ গুণ (৪০০০-১১০০০ টাকা) অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও ইউএনওর কাছে প্রতিকার চেয়েছিল।
লাখাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকারি সম্পদ চুরির এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মাদ্রাসা সুপারসহ ৬ জন ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
লাখাই থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, জব্দকৃত মালামাল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আক্তার জানান, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এবং সরকারি সম্পদপাচার কারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
আরওপড়ুন…. কাজিপুরে জু’য়ার আসর থেকে আট’ক দুই
Subscribe to get the latest posts sent to your email.