
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
স্বজনদের আপত্তির মুখে কবর থেকে লাশ উত্তোলণ না করেই ফিরে গেছে পিবিআই’র ঢাকা অফিসের একটি টিম। সোমবার (১৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমুলঘর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
ঢাকার সাভারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন শিমুলঘরের বাসিন্দা মৃত লাল মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া ওরফে শফিক (৫৮)। তিনি সেখানে শরবত বিক্রি করতেন। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ২০ জুলাই ২০২৪।
এ ঘটনায় পাবনা জেলার ফরিদপুর থানার সাভার গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়া হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ১২৪৮/২০২৪ দায়ের করেন। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মোট ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে সোমবার বিকেলে নিহত শামীমের লাশ উত্তোলণের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) এর একটি টিম শিমুলঘর গ্রামে আসে। সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজিবুল ইসলাম এবং ছাতিয়াইন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল।
তবে নিহত শামীম মিয়ার স্বজনরা এ লাশ উত্তোলণে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানান। তারা বলেন, “অপরিচিত একজন জাকারিয়ার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে শামীমের লাশ উত্তোলণ আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।” শামীমের ভাই জহুরুল ইসলাম জানান, “আমরা নিজেরাই শামীম হত্যাকাণ্ডে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। সেখানেই আমরা সুবিচার প্রত্যাশা করি।”
পিবিআই ইনস্পেক্টর গোবিন্দ লাল দে বলেন, “নিহতের স্বজনদের আপত্তির বিষয়টি আমরা আদালতকে জানাব।”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, “আদালতের নির্দেশে আমরা ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলণে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্বজনদের লিখিত আপত্তির কারণে তা না করেই ফিরে আসি।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.