
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামে পারিবারিক চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা সৃজিত চন্দ্র দেব (৪৩) মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বাদী সৃজিত চন্দ্র দেব একজন শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ। কিন্তু তার প্রতিবেশী বিবাদী মোঃ ফনির মিয়া (৩৫), মোঃ জনি মিয়া (২৭) ও মোঃ লিহান মিয়া (২১) দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক চলাচলের একটি রাস্তা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে তাদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। প্রায় ২২-২৩টি পরিবারের প্রায় ২৫০-৩০০ জন মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করে। এর আগে গ্রামের কাজল মিয়া এই রাস্তাকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, সৃজিত চন্দ্র দেব সাক্ষী হন। এতে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ জুন রবিবার বিকেল ৩টার দিকে বাদীর অনুপস্থিতিতে বিবাদীরা তার বসতবাড়িতে এসে স্ত্রী শান্তা রানী দেবকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তিনি প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে, চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় ১নং বিবাদী তার গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ১,০৫,০০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয় এবং ২নং বিবাদী একটি স্মার্টফোনসহ দুটি সিমকার্ড (মূল্য আনুমানিক ২১,০০০ টাকা) লুট করে।
বাড়ির অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে বিবাদীরা হুমকি দিয়ে জানায়, তারা কাউকে বাড়িতে থাকতে দেবে না এবং প্রয়োজনে খুনও করবে। পরে বাদী বাড়িতে ফিরে আহত স্ত্রী ও আরেকজন সাক্ষীকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান।
অভিযুক্ত মোঃ ফনির মিয়া ও মোঃ জনি মিয়া জগদীশপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নিষ্ক্রিয় (নিষিদ্ধ) কমিটির সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শান্তা রানী দেব, সুজন দেব, হাছেনা বেগম, নাজমা আক্তার, মালু মিয়া ও মোঃ কাজল মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চলাচলের এই রাস্তা বিষয়ে ২০১৬ সালে এক সালিশ বৈঠকে সৃজিত চন্দ্র দেবের পরিবারকে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি তাদের পূর্বপুরুষরাও এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন। বর্তমানে কাজল মিয়া ও অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে ২ জুন ইউনিয়ন পরিষদে, ৬ জুন মাধবপুর থানায় এবং ১৮ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরওপড়ুন….আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও ঘর নির্মাণ, এসআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.