1. salmankoeas@gmail.com : admin :
নীরব চাঁদাবাজি চলছে সর্বত্রই - দৈনিক ক্রাইমসিন
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুরবানীর পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কাজীপুর সোনামুখী পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড়, জমজমাট বেচাকেনা নীরব চাঁদাবাজি চলছে সর্বত্রই মাদকের নীল ছোবলে বিপথগামী হচ্ছে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামে যৌন নির্যাতনের শিকার দুই বোনসহ ৩ শিশু নিজে আড়ালে থেকে অসহায়দের জীবনে আলো জ্বালাতে নিরলস রাফিক লাখাইয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ফোর্স মোবিলাইজেশন। সোনামুখী হাটে যানজটের শঙ্কা, বালুবাহী ট্রাক আগামীকাল চলাচল বন্ধের দাবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় লাখাই পুলিশের বিশেষ মহড়া রামিসা হত্যার বিচার ১ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

Join 4 other subscribers

নীরব চাঁদাবাজি চলছে সর্বত্রই

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ২০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার :
সারাদেশে ১২৮০ চাঁদাবাজ : আশ্রয়তাদা রাঘব-বোয়াল ৩১৪ জন শিল্পপতি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবাই অতিষ্ঠ, ওপেন সিক্রেট সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র, পর্দার আড়ালে রোঘব-বোয়ালরা :: চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই, অপরাধের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে : আইজিপি আলী হোসেন ফকির

চাঁদা না পেয়ে উত্তরায় এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসা লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বারের মত গুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৮ টায় উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির প্রধান ফটকে তিনটি গুলি ছোড়ে চাঁদাবাজ দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত ১০ মার্চ ওই বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।
চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে বারিধারা জে ব্লকের ৯ নং রোডের গাড়ির শোরুমের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। ককটেল হামলার পরেই ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন আসে। কলদাতা গাড়ির শো-রুমের ওই মালিকের কাছে নিজেকে দীপু নামে পরিচয় দিয়ে ১ কোটি টাকা দাবি করে। অন্যথায় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হুমকি দেয়া হয়। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় ফুটপাত থেকে পরিবহন খাত, ময়লার গাড়ি থেকে গার্মেন্টস, রিকশার গ্যারেজ থেকে শুরু করে গাড়ির শো-রুম এমনকি নতুন ভবন নির্মাণসহ সব সেক্টরেই চলছে নীরব চাঁদাবাজি। বাদ যাচ্ছে না সেবামূলক প্রতিষ্ঠানও। হাসপাতাল থেকে স্কুল-কলেজ সর্বত্রই ভর করছে চাঁদাবাজ আতঙ্ক।

ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পপতিরাও ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। চাঁদাবাজদের একটা বড় অংশ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত থাকায় ভুক্তভোগীদের অনেকেই তা প্রকাশ করছেন না। যে কারণে অধিকাংশ ঘটনাই আসেনা পুলিশের রেকর্ডেও। নীরব চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলেও প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছেন আড়ালে। জামায়াত ও এনসিপির নেতারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেও তাদের নেতাকর্মীরাও চাঁদাবাজি থেকে পিছিয়ে নেই। তবে আইন শৃংখলা বাহিনীর দাবি, সারাদেশের চাঁদাবাজদের তালিকা এখন পুলিশের হাতে। পুলিশ ব্যবস্থাও গ্রহণ শুরু করে দিয়েছে। ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের ভাগিনা আসাদুজ্জামান সাব্বিরকে ৬ মে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। মো. হাসান নামের একজন ব্যবসায়ী প্রাইভেটকারে করে যাওয়ার সময় তার ১৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল জামায়াত এমপির এই ভাগিনা। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে।
জানতে চাইলে আইজিপি মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকির ইনকিলাবকে বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। পুলিশ সারাদেশে আইন-শৃংখলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে। কোন ব্যক্তি অপরাধের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং হবে।

মানুষ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। শিল্পপতি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কেউ চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন হওয়ার পর তৎপর হয় আইনশৃংখলা বাহিনী।

সারাদেশে সব সেক্টরে অব্যাহত চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গত ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে ডিএমপি রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের একটি তালিকা তৈরি করে। ডিবি, এসবি ও ডিএমপি কমিশনারের গোয়েন্দা ইউনিটের সমন্বয়ে তৈরি এ তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম উঠে আসে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতার তালিকায় রয়েছেন ৩১৪ জনের নাম। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকায় নতুন নাম নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে। ঢাকায় চাঁদাবাজিতে রাজনৈতিক নেতা ও ক্যাডারদের বাইরে সক্রিয় প্রায় ১৪৮ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। ডিএমপির তালিকা অনুযায়ী, এসব অস্ত্রধারীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে চাঁদাবাজদের তালিকা ও বিশেষ অভিযান শুরু হয় চলতি মাসের এক তারিখ থেকে। ১ মে শুরু হওয়া অভিযানে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ হিসেবে এ পর্যন্ত তিনশর বেশি গ্রেফতার করা হয়। এ বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তালিকায় থাকা চাঁদাবাজদের বেশিরভাগই নিজেদের সরকারদলীয় নেতা-কর্মী পরিচয়ে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। তবে চাঁদাবাজি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইতিমধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন থেকে অনেককেই বহিষ্কার করছে দলটি। চাঁদাবাজির তালিকায় রয়েছে পেশাদার সন্ত্রাসীরা-চাঁদাবাজও। অন্যান্য দলেরও কিছু নেতা-কর্মীর নাম তালিকায় আছে। কোথাও কোথাও চাঁদাবাজি চলছে মিলেমিশে।

আইন-শৃংখলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনা পালানোর পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চাঁদাবাজি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলেও চাঁদাবাজির চক্র এখনো সক্রিয়। কেবল এর চেহারা এবং নিয়ন্ত্রণকারীদের হাতবদল হয়েছে মাত্র। একটি চক্রের পতনের পর অন্য একটি চক্র সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে চাঁদাবাজি কেবল নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সমস্যা নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি গভীর প্রোথিত কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য। বর্তমান সরকারের উচিত হবে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা যেই হোকনা কেন তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর হস্তে দমন করা। এ জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় তথা সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা পৌঁছাতে হবে মাঠ পর্যায়ের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে। তবেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারিত্ব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন প্রশাসনের সদস্যরা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট রাতারাতি উধাও হয়ে যায়। কিন্তু একদিনের জন্যও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। বরং শূন্য ফাঁকা মাঠে সহজেই দখল প্রতিষ্ঠা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচিত একশ্রেণির অসাধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী এমনকি জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং ছাত্রনেতা পরিচয়েও নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলেও চাঁদাবাজির ঘটনা কমছে না।
জানতে চাইলে র‌্যাবের ডিজি মো: আহসান হাবীব পলাশ ইনকিলাবকে বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা নিয়ে সারাদেশেই র‌্যাব কাজ করছে। প্রতিনিয়ত র‌্যাবের অভিযানে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হচ্ছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলেও ভুক্তভোগীরা মামলা করতে রাজী হন না। এ ক্ষেত্রে অনেক চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সমস্যা হচ্ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) একজন কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, নানা নামে, নানা প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে হয়। দেশে এমন কোনো শিল্পাঞ্চল নেই, যেখানে স্থানীয়দের কাছে শিল্পমালিকদের চাঁদা দিতে হয় না। চাঁদাবাজরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদা দিচ্ছে।

গত ১০ এপ্রিল রাজধানীর শ্যামলীতে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ চাঁদা দাবির নেতৃত্বে ছিলেন শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন। মানবিক চিকিৎসক খ্যাত কামরুলের কাছে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা প্রচার হলে সক্রিয় হয়ে ওঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাঁদাবাজির মূলহোতা মঈন উদ্দিন মঈনকে নড়াইল থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় তার আরো ৬ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৬ মে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) এর সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রশিদুল আলমের কক্ষে ঢুকে অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা নিজেদের পছন্দের ৩০ জনকে আউটসোর্সিং নিয়োগের চাপ দেয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার অন্তরালে রয়েছে ‘পিচ্চি রাকিব’, ‘কালা রাকিব’ এবং পাপ্পু নামে ৩ জন। পিচ্চি রাকিবের বাবা হাবিব আওয়ামী লীগের পঙ্গু ইউনিটে যুক্ত ছিলেন। এখন পিচ্চি রাকিব বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, কালা রাকিব ২৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। এই দুই রাকিবের সহযোগী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাপ্পু হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাসপাতাল সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত। সকল এলাকায় সব ধরনের চাঁদাবাজিতে যুক্ত এ চক্র।

সূত্র জানায়, ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাতগুলো, সিটি করপোরেশনের দোকান, হকারের। কিন্তু সরকারি দলের নেতা-কর্মী পরিচয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। দিনের পর দিন পুলিশের চোখের সামনেই দোকানগুলো বসছে। কিন্তু দোকান উচ্ছেদ অথবা চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। অনেকটা মিলেমিশে চাঁদাবাজি চলছে। ঢাকার চাঁদাবাজদের নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ যে তালিকা করেছে তাতেও বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির সুযোগ দিয়ে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা টাকার ভাগ পান। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ওসিরা সুবিধা নেন বলেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখান বা অনেক সময় দায়সারা গোছের কিছু পদক্ষেপ নেন। অভিযোগ রয়েছে, অধীনস্থ কর্মকর্তাকে দিয়ে চাঁদার ভাগ নেয়ার দায়ে চলতি মাসের প্রথমদিকে মিরপুর বিভাগের একটি থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। মিরপুর অঞ্চলের সাতটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজির দেড়শ’র বেশি স্পট রয়েছে। এসব স্পট থেকে চাঁদা তোলায় জড়িত ৭২ জন। চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রয়েছেন ২৫ জন।

গাবতলী টার্মিনাল একটা গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের দোকান, মূল সড়কে অবৈধ বাস-ট্রাক পার্কিং, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ, লেগুনাস্ট্যান্ড, ভাঙারি দোকান, ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা, ময়লার ব্যবসা, পোশাক কারখানা, ঝুট ব্যবসা, ভবন নির্মাণ, ভ্রাম্যমাণ দোকান, সরকারি জমিতে কাঁচাবাজার, বস্তিঘর ও ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ, কয়লা ও ইট-বালুর ব্যবসা ইত্যাদিতে চাঁদাবাজি হয়।
পল্লবীর কালশীর একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত রমজান মাসে মামুন বাহিনীর লোকজন তাঁর অফিসে এসে মাসে এক লাখ টাকা দাবি করে। পুলিশকে জানানোর পর মামুন বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেন। রূপনগর এলাকার আরামবাগ বাগানবাড়ির ঝিলপাড় বস্তিতে প্রায় ৩৫০ ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ থেকে জনি ও খোকন ঘরপ্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে আদায় করেন। রূপনগর আবাসিক এলাকায়ও অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে টাকা তোলা হয়। এ টাকা তোলেন রূপনগর থানার ওসির সোর্স হিসেবে পরিচিত সাজেদুল ইসলাম (টুটুল)

গুলশান ১, গুলশান ২ ও শাহজাদপুর এলাকায় ফুটপাতের দোকান থেকে দিনে ২শ’ থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। গুলশান ও বনানীর স্পা সেন্টার থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা তোলার তথ্যও রয়েছে পুলিশের তালিকায়। গুলশান, মহাখালী, বাড্ডা, রামপুরা, মগবাজার এলাকায় পেশাদার সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে সদস্য বেশি জিসান গ্রুপের। পুলিশের তালিকায় ডেমরা থানা এলাকায় অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ রয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ বিজয় ও মোহাম্মদ শিবলী আহমেদ খান। শ্যামপুর থানা এলাকায় রয়েছেন পাঁচজন। ওয়ারী থানা এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক মাহিন খান, মারজান আহমেদ ওরফে ভাগনে রনি ও মো. শামীম মিয়া। কদমতলী থানা এলাকার তিন অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াহিদুজ্জামান ও মোহন চাঁদ। কামরাঙ্গীরচর এলাকার চারজন হলেন মো. সিদ্দিক, ফারুক আহমেদ, রহমত উল্লাহ ও শেখ আনোয়ার। চকবাজার থানা এলাকার মো. সালাউদ্দিন ওরফে বিয়ার সালাউদ্দিন ও হাসান সারোয়ার পিলু। সবুজবাগ এলাকায় সক্রিয় অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ হলেন রিফায়াতুল্লাহ নাইম, হৃদয় সরকার, মো. সাঈদ, শফিকুল ইসলাম ও নুরুন্নবী বাবু। খিলগাঁও এলাকায় সক্রিয় মকবুল হোসেন, মিন্টু ওরফে কিলার মিন্টু, আলিফ ও শুভ ওরফে রিপন। তাঁদের মধ্যে আলিফ কিশোর গ্যাং দলের দলনেতা। পল্টন থানা এলাকায় সক্রিয় কাজী হাসিবুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ। শাহজাহানপুর থানা, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবী থানা এলাকায় সক্রিয় অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদেরও কিছু নাম রয়েছে বলে পুলিশের তালিকায়। এ ছাড়া ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপ।

সংবাদটি সংগৃহীত………সোনামুখী হাটে যানজটের শঙ্কা, বালুবাহী ট্রাক আগামীকাল চলাচল বন্ধের দাবি


Discover more from দৈনিক ক্রাইমসিন

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!

Discover more from দৈনিক ক্রাইমসিন

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading