
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা::
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়দানকারী শেখ শামীম আহমেদের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে থানায় ইয়াবাসহ আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং এক পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেখ শামীম আহমেদের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে মাধবপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফারুক মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে বুল্লা ইউনিয়নের বানেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ রাসেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হলে ৮ জুন ভোররাতে শেখ শামীম আহমেদ তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় যান বলে অভিযোগ রয়েছে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া লকআপ খোলা সম্ভব নয় বলে জানানো হলে শেখ শামীম আহমেদ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক স্ট্যাটাস দেন। বিষয়টি প্রশাসন ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, “ সে উপজেলা যুবদলের সদস্য। বিষয়টি নিয়ে আগামী ১৫ জুন মাধবপুর উপজেলা যুবদলের বৈঠকে আলোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবীদের বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনে কোনো স্থান নেই। প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও অত্যন্ত দুঃখজনক। দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিকুর রহমান সেতু বলেন, “বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানানো হবে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, শেখ শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে পূর্বে জাল নোট সংক্রান্ত একটি মামলাও রয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শেখ শামীম আহমেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ আমি ইয়বা সেবন করিনি। ভিডিওটা প্রায় তিন বছর আগের, এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। ”
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সুহেল রানা বলেন, “ঘটনার সময় আমি থানার বাইরে দায়িত্বে ছিলাম। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
আরওপড়ুন …..মাধবপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
Subscribe to get the latest posts sent to your email.