
জেলা প্রতিনিধি :
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের কারণে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৫টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর পানি এখনও বিপদসীমার অনেক ওপরে রয়েছে। যদিও ধলই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবুও উজানের অব্যাহত ঢলের কারণে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক পরিবার গভীর রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
প্লাবিত এলাকাগুলোর বসতবাড়ি, রান্নাঘর, মাছের ঘের, কৃষিজমি এবং গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল বাঁধ দিয়ে আকস্মিকভাবে পানি প্রবেশ করায় শ্রীপুর, গোলের হাওর, ভান্ডারীগাঁওসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। টানা দুই দিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা সড়ক এবং ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
আরওপড়ুন…… ঝুঁকিপূর্ণ ধর্মঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক