
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীকে কেন্দ্র করে আবারও বালু উত্তোলন নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকার অনুমোদিত ইজারার সীমা অতিক্রম করে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে বসতভিটা, কৃষিজমি, কবরস্থান এবং গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।
এ অভিযোগের প্রতিবাদে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গোবর্ধনপুর এলাকায় সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় ধলাই নদীর তীরে মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গোবর্ধনপুর, ধলাইপাড়, কুমড়াকাপনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলছে। তাদের অভিযোগ, ইজারাকৃত বালুমহালের পাশাপাশি ইজারার বাইরের স্থান থেকেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরভাঙনের আশঙ্কা বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদাল হোসেন বলেন, “নদীর পাড় প্রতিনিয়ত ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে বালু তোলা চলতে থাকলে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
মো. হারুনুর রশীদ, তারেক মিয়া, আজিজুর রহমান, সফিক মিয়া ও সমির মিয়াসহ অন্য বক্তারা বলেন, নদীর তীরবর্তী কবরস্থান এবং গ্রামীণ সড়কও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, তারা সরকার অনুমোদিত ইজারাকৃত বৈধ বালুমহাল থেকেই নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করছেন। ইজারার বাইরে কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না এবং তাদের কার্যক্রমে বসতভিটা, কৃষিজমি বা কবরস্থানের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীরভাঙন এবং জনবসতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইজারার শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে বালু উত্তোলন হচ্ছে কি না—তা দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জানান, তদন্তের পাশাপাশি অবিলম্বে ড্রেজার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ করে নদী ও জনবসতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
আরওপড়ুন…..দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত অসচ্ছল পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান