
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাধবপুর হবিগঞ্জ :
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি হাসপাতালের গেট থেকে শুরু করে ওষুধের দোকান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পর্যন্ত এই দালালরা সক্রিয়ভাবে রোগী শিকারে লিপ্ত। এতে একদিকে যেমন রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
দালালদের কর্মকাণ্ড
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকেই দালালরা চিকিৎসার বিলম্ব, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার অজুহাতে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে প্ররোচিত করে। সেখানে নেওয়ার পর রোগীদের খরচ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ভর্তি করিয়ে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব দালাল ক্লিনিক মালিক ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। প্রতিটি রোগী প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়ার বিপরীতে তারা কমিশন পান, যা তাদের এই কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে।
জনদুর্ভোগ ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় এক রোগীর স্বজন জানান, “আমরা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এক লোক আমাদের বলল এখানে ডাক্তার নেই, প্রাইভেটে নিলে দ্রুত হবে। পরে বুঝলাম, আমরা প্রতারিত হয়েছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ ইমরুল হাসান জানান, “আমরা দালালদের দমন করতে সচেষ্ট। নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার।”
আরওপড়ুন …স্বস্তির বৃষ্টিতে মাধবপুরের চা বাগান ফিরেছে প্রাণ চা শ্রমিকদের মুখে ফিরেছে হাসি
করণীয় ও সুপারিশ
আইনগত ব্যবস্থা: দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ: রোগী ও স্বজনদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মাইকিং করতে হবে।
হেল্প ডেস্ক চালু: হাসপাতালের গেটেই তথ্য সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করে রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
প্রশাসনের নজরদারি: হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পুলিশি টহল ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ জোরদার করা উচিত।
মাধবপুরে সরকারী হাসপাতালের আশপাশে দালাল চক্রের এমন দৌরাত্ম্য শুধু জনসেবা নয়, স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.