
অনলাইন ডেস্ক :
বাংলাদেশের আমদানি নীতি পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার পেঁয়াজ বাজারে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ আশানুরূপ পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি না করায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারক ও কৃষকরা।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ আর আগের মতো ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করছে না। এর ফলে মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ ও গুজরাটের কৃষকদের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় দেশটির পাইকারি বাজারেও মন্দা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অস্থিরতার মূল কারণ ভারতের নিজস্ব নীতি–অনিশ্চয়তা। স্থানীয় বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটি গত কয়েক বছরে বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বৃদ্ধি এবং সীমিত রপ্তানির মতো সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বড় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। বাংলাদেশের আমদানিও ধীরে ধীরে ভারত-নির্ভরতা কমিয়ে পাকিস্তান, চীন ও মিয়ানমারমুখী হয়েছে।
এ ছাড়া ভারতীয় বীজ ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ বীজের নিয়ন্ত্রণ হারানো ভারতের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। যারা একসময় বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করত, তারা এখন স্থানীয় উৎপাদনে অনেকটাই স্বনির্ভর—ফলে ভারতের বাজার সংকুচিত হচ্ছে।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, বাংলাদেশের বাজার হারানোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে তাদের ওপর। একসময় যেখানে বাংলাদেশ ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, এখন সেখানে অর্ডার প্রায় নেই বললেই চলে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ভারতের উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেছে, যা কৃষকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।
সৌদি আরবও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কমিয়েছে। দেশটি এখন পাকিস্তান ও চীন থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করছে। ফলে ভারতের রপ্তানি সংকট আরও গভীর হয়েছে।
কৃষক সংগঠনগুলো বলছে, দ্রুত স্থায়ী ও সুস্পষ্ট রপ্তানি নীতি গ্রহণ না করলে ভারতের পেঁয়াজ শিল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়বে। তারা সরকারের কাছে রপ্তানি নিশ্চিতকরণ, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানিয়েছে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.