
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা::
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নূর মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, প্রকল্প কমিটিকে উপেক্ষা করে নিজস্ব লোকজন দিয়ে কাজ করানো এবং বদলির আদেশ স্থগিত করাতে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ৯ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের ওপর থাকলেও মাধবপুরে অধিকাংশ প্রকল্পে তাদের ভূমিকা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে পিআইওর তত্ত্বাবধানে তার ঘনিষ্ঠ লোকজন দিয়ে করিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়।
জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, এসিল্যান্ড অফিসের সড়ক সংস্কার প্রকল্পে তাকে সম্পাদক করা হলেও কাজের বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ পিআইওর লোকজন করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ঢালাই কাজে প্রয়োজনীয় রড ব্যবহার না করার অভিযোগও তোলেন।
গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি কামরুল ইসলাম মঙ্গল বলেন, এই স্কুলের মাঠে প্রকল্পের কোন কাজ হয়নি। তিনি যে ওই প্রকল্পের সভাপতি, সেটিই জানতেন না। প্রকল্পের কাজ বা অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সুরমা গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, নোয়াহাটি-মনতলা ডিসি রোড থেকে ব্যাপারিহাটি হাবিব ড্রাইভারের বাড়ি পর্যন্ত এবং রতনপুর আবু বক্করের বাড়ি থেকে রতনপুর জামে মসজিদ পর্যন্ত কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ইটসলিং রাস্তার নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প সমাপ্ত দেখানো হয়। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগের পর ওই দুটি প্রকল্পে অতিরিক্ত কিছু কাজ করা হয়।
এদিকে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন না করার নীতিমালা থাকলেও মো. নূর মামুন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে প্রায় চার বছর ধরে মাধবপুরে কর্মরত রয়েছেন। গত ডিসেম্বরে তাকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগদান না করে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে গত ৭ মে তার বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বদলি স্থগিত করা হলেও মাধবপুর উপজেলার কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তার স্ত্রীর ভর্তি বা চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক সুবিধার কারণেই তিনি বদলি স্থগিতের চেষ্টা করেছেন।
এ বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, পিআইও ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হওয়ায় বদলি-পদায়নের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের আওতাধীন। বদলির আদেশ পাওয়ার পর ছাড়পত্রের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে বদলি স্থগিত হওয়ার বিষয়টি তার জানা ছিল না। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে পিআইও তাকে অবহিত করেন না বলেও জানান তিনি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে কোনো কর্মকর্তার বদলি স্থগিত রাখতে পারেন। তবে নূর মামুন কীভাবে প্রায় চার বছর একই কর্মস্থলে রয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে পিআইও মো. নূর মামুন বলেন, স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তার বদলি স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিজস্ব লোকজন দিয়ে কাজ করানো এবং প্রকল্প থেকে ৯ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আরওপড়ুন…… কাজিপুরের সোনামুখী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা