1. salmankoeas@gmail.com : admin :
আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি শিক্ষকদের - দৈনিক ক্রাইমসিন
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন না, জানালেন ইসি সচিব নন্দীগ্রামে আধুনিক স্বাস্থ্য সেবায় ফিরল ২০ শয্যা হাসপাতাল প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ও নতুন মসজিদ উদ্বোধন সোনামুখীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোনেক্কা হোসেনের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার, স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে রাজনগরে একই পরিবারের ১৪ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী; ৩ জনের সফল অস্ত্রোপচারে স্বস্তি পরিবারের কলেজে যাওয়ার পথে অচেতন ছাত্রী, মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি জুলাই মাসেই হবিগঞ্জ কারাগারে হুইপ জিকে গউছ কে প্রফেশনাল কিলার দ্বারা হত্যার চেষ্টা লাখাইয়ে বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ। লাখাইর বুল্লাবাজার এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। মহিউদ্দিন আহমেদ রিপন লাখাই থেকে নন্দীগ্রামে দুর্যোগে মিলছে জরুরি খাদ্য, তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে প্রশাসন বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতিতে বিএনপি, জোরদার হচ্ছে সাংগঠনিক নজরদারি

আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি শিক্ষকদের

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫
  • ৫৬৫ Time View

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগ এনে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি পেলেও, বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কার্যক্রমে এর সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষক-কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। অভিযোগে উল্লেখিত অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:

রসিদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ও অন্যান্য ফি আদায় এবং ব্যাংকে নিয়ম অনুযায়ী জমা না দেয়া,

পরিচালনা পরিষদের রেজুলেশন জালিয়াতি করে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ,

ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা না রেখে নগদ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ,

প্রশংসাপত্র ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, বিশেষ ক্লাস বাবদ আদায়কৃত অর্থের অংশ জমা না দিয়ে আত্মসাৎ,

বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও ক্রয় উপকমিটি এড়িয়ে খরচের অভিযোগ,

পুরাতন বই, পরীক্ষার খাতা, বেতন কার্ড ইত্যাদি বেআইনিভাবে বিক্রি করে ফান্ডে না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ,

অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠন না করা এবং হিসাব উপস্থাপনে স্বচ্ছতা না রাখা,

নারী শিক্ষার্থী ও মহিলা অতিথিদের নিয়ে অশোভন মন্তব্যসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগ।

শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষক-অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে।

তাঁরা দ্রুত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন:
সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান মিয়া, সিনিয়র শিক্ষক মানসুরা আক্তার, তাজুল ইসলাম, ফখরুজ্জামান, মোস্তফা কামাল, রতি রঞ্জন চক্রবর্তী, নাজিম উদ্দিন, মাসুমা বেগম, অফিস সহকারী মোঃ রায়হান উদ্দিন, ল্যাব অপারেটর সাহেদুল ইসলাম, নিরাপত্তা কর্মী হাবিবুর রহমান, নৈশ প্রহরী আজমান মিয়া, অফিস সহায়ক জোবায়েদ আহমেদ এবং আয়া সুহেদা আক্তার।

তাঁরা একমত পোষণ করেন যে, অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সিনিয়র শিক্ষক মানসুরা আক্তার বলেন, “আমরা যে অভিযোগগুলো করেছি, তা সম্পূর্ণ সত্য। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

সহকারী শিক্ষক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে এখানে কর্মরত। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারিনি। প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া বিভিন্ন ফি আদায় করেন। এছাড়া ছাত্রী ও মহিলা অতিথিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

সিনিয়র শিক্ষক রাখি রানী দেব বলেন, “আমি এই অভিযোগকারীদের দলে নেই। তবে আমি চাই সত্য বেরিয়ে আসুক। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা আমার সম্মানিত সহকর্মী।”

অফিস সহকারী মোঃ রায়হান উদ্দিন বলেন, “প্রধান শিক্ষক আমাকে আমার নির্ধারিত কাজ করতে দেন না। প্রশংসাপত্র বাবদ আদায়কৃত অর্থের আংশিক ব্যাংকে জমা দিলেও বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।”

নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, “অভিযোগগুলো সত্য। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পাবে।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমি নির্দোষ, এবং তদন্তেই তা প্রমাণিত হবে।”

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর) মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানান,
“বিষয়টি আমি শুনেছি। ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। যেহেতু জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট অভিযোগ করা হয়েছে, আমরা স্যারের নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,আমি শুনছি, তবে কি বিষয় নিয়ে জানি না।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!