
ক্রাইমসিন সংবাদ :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ডিগ্রি কলেজে প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। এত বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকাকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষাবিদরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, আর্থিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, ধর্মঘর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ১৯৯৩ সালে ধর্মঘর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৯ সালে কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক স্তর এমপিওভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে মানবিক বিভাগ দিয়ে ডিগ্রি শ্রেণি চালু করা হয়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী ডিগ্রি পর্যায়ে কমপক্ষে দুটি বিভাগ চালু না থাকায় কলেজটির স্নাতক পর্যায় এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে কয়েক শত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আশাব্যঞ্জক ফলাফল অর্জন করছে। কিন্তু শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন মাসে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থবছরের শেষ সময়ে বরাদ্দ পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ উত্তোলন ও নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রাপ্ত বরাদ্দের সঙ্গে কলেজ তহবিলের অর্থ সংযুক্ত করে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিতে বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামালকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে এখনো কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকা জাতির ইতিহাস ও চেতনার জন্য বেদনাদায়ক। দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে।”
ধর্মঘর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জায়গা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ এগোয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “শহীদ মিনার নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও ইতিহাস সচেতনতা জাগ্রত করতে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নন্দীগ্রাম কাহালু ৩৯ বগুড়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.