
পাবনা সংবাদদাতা :
পাবনার বেড়া উপজেলা নয়টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় এখন প্রায় সব জায়গায় প্রকাশে মাদক কেনাবেচা ও মাদকের আখড়া গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পৌর সদরসহ ইউনিয়নের প্রায় সকল পাড়া-মহলার থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ যে কোন ধরনের মাদকদ্রব্য।
দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলায় বিপথে যাচ্ছে স্থানীয় কিশোর-যুবকরা। এতে পুরো এলাকাজুড়ে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, আইনশৃংখলা বাহিনী এ ব্যাপারে মাঝে মাঝে তৎপর থাকলেও কতিপয় পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যের কারণে মূল গডফাদাররা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদকের করাল গ্রাসে আজ ধ্বংসের পথে যুবসমাজ। মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে চুরি, ছিনতাই, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবকরা।
অনুন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সবচেয়ে বেশি মাদকের ছড়াছড়ি ও সহজভাবে পাওয়া যায়, বেড়া পৌরসভা, জাতসাকিনি, হাটুরিয়া-নাকালিয়া, পুরান ভারেঙ্গা, নতুন ভারেঙ্গা, রুপপুর, কৈটোলা ইউনিয়নে এছাড়া অনান্যা ইউনিয়ন গুলোতে মাদক কেনাবেচা ও সেবন কারি দিনদিন বেড়েই চলেছে। মাদকের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে।
নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক মাদকাসক্ত পরিবারে অশান্তিসৃষ্টি করছে। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট, সামাজিক লজ্জা ও মানসিক বিপর্যয় সব মিলিয়ে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ঝরে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে তাদের ভবিষ্যৎ। অনেক ক্ষেত্রে তারা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেড়া পৌরসভার মৈত্রবাধার গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, আমাদের এলাকায় মাদক বিক্রির জন্য মাদক ব্যবসায়ি ৪-৫ জন কর্মচারী রেখেছে। তারা শিফট অনুযায়ী ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা করে। সন্ধ্যা হলে যেনো মাদক সেবনকারিদের হাট বসে। রাস্তার পাশেই মাদক নিয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রেতারা হাঁকডাক দিচ্ছেন। এত কিছুর পরও কোনো অদৃশ্য কারণে প্রশাসন এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে। মাঝে মধ্যে দু-একটা অভিযান পরিচালনা হলেও তা ধারাবাহিক নয়। সকালে অভিযান চললে দুপুরেই জমে উঠছে মাদকের হাট। ফলে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের পরিচয় গোপন রাখা একজন বলেন,পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও কয়েকদিনের মধ্যে আবার জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের পূর্বের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে তারা। অনেকেই অভিযোগ করেন, পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করাকে। তবে বেড়াবাসি দ্রুত মাদকের এ বিস্তার রোধে প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন মহলের নিকট জোর দাবি জানান। তারা বলেন, মাদকের এ করাল গ্রাসে আমাদের যুব সমাজ দিন দিন ধ্বংসের পথে ধাপিত হচ্ছে। বেড়াবাসি এ অবস্থা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চায়।
বেড়া মডেল থানার ওসি নিতাই চন্দ্র রায়, মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। আমাদের নিয়মিত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত এক সাপ্তাহে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচলানা করে বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্যসহ হাতেনাতে ৭ জন মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে মোবাইল কোর্ট পরিচলানায় এ পর্যন্ত ৫ জনের অধিক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আভিযান চলমান থাকবে।
পাবনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাজ ২৪ ঘণ্টা চলমান আছে। মাদক চোরাচালানের ও বিক্রির অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করি। এছাড়া মাদকের ভয়াবহতা কমিয়ে আনতে ধরপাকড় ও মামলার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার স্কুল কলেজে ছাত্র ছাত্রীদরে মাঝে মাদকের ভয়াবহতার বিষয়ে তুলে ধরা হচ্ছে। জনসাধারণকে সচেতন করতে পারলে সমাজে এর প্রভাব কমে আসবে।
প্রশাসন, সচেতন জনগণ ও নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিয্যতে মাদকের বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে বিজ্ঞ মহল। তবে গত কয়েক দিন যাবদ সহকারি কমিশনার ভূমি, নুরেন মাইশা খান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৭ জন মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারিদের জেল-হাজতে পাঠিয়েছে। এতে করে সচেতন মহল ও সাধারন মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করছে।
আরওপড়ুন….. লাখাইয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ফোর্স মোবিলাইজেশন।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.